ব্যক্তিত্বের যে সমস্যাগুলো থাকতে পারে আপনারও!

মানুষের ব্যক্তিত্বের অসামঞ্জস্য বা পার্সোনালিটি ডিসর্ডার নিয়ে গবেষণা চলছে সেই অনাদিকাল থেকে। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নয়, দীর্ঘদিন এই গবেষণা হয়েছে মানুষের অভিজ্ঞতার আলোকে। কিন্তু ধীরে ধীরে এসব গবেষণা উঠে আসে ল্যাবটরিতে।

 মনোবিজ্ঞানী ফিলিপ প্যানেল ১৮০১ সালে manie sans délire নামে একটি বই প্রকাশ করেন যেখানে তিনি মানুষের অতিরিক্ত রেগে যাওয়া, হিংস্র হয়ে যাওয়া (manie) কে বিভ্রম এবং হ্যালুসিনেশন (delire) বলে আখ্যা দেন এবং ব্যাক্তিত্বের সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ফিজিশিয়ান জে সি প্রিচার্ড ‘নৈতিক বাতুলতা’ শব্দটি ব্যবহার করেন ১৮৩৫ সালে। বড় সংখ্যক মানুষের মধ্যে গবেষণা করে তিনি দেখেন মানুষের মধ্যে আবেগ, ভালবাসা, বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ নিয়ে ভয়ংকর স্বেচ্ছাচারিতা বিরাজমান। যাকে ব্যাক্তিত্বের সমস্যা হিসেবে চিনহিত করে তিনি এই আখ্যা দেন।
এর ৬০ বছর পর ১৮৯৬ সালে মনোবিজ্ঞানী এমিল ক্রাপেলিন মানুষের ৭ টি অসামাজিক আচরণকে মনোরোগের আওতাভূক্ত বলে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর ব্যবহৃত  ‘psychopathic personality’ টার্মটিকে আরো বোধগম্য করেন তাঁর সহকর্মী কার্ট সিনেডার। তিনি এই সমস্যা গুলোকে আখ্যা দেন ‘Suffer from abnormality’. ১৯২৩ সালে এক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি তাঁর গবেষণাটি কে বিশদ ব্যাখ্যা করেন যা পরবর্তীতে Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders 5th Revision (DSM-5) নামে সংকলিত হয়। তাঁর সেই ব্যাখ্যা অনুযায়ী পার্সোনালিটি ডিসর্ডার সম্পর্কে ৫টি ধারণা এখানে তুলে ধরা হল-
১। প্যানারয়েড পার্সোনালিটি ডিসর্ডার-

প্যানারয়েড এর শাব্দিক অর্থ ভীতু। একজন প্যানারয়েড পার্সোনালিটি সম্পন্ন ব্যাক্তি সবসময় আশপাশের মানুষকে ভয় করেন। তাঁর মনে হতে থাকে সবাই তাঁর ক্ষতি করতে চায়। তিনি অন্যদের সন্দেহ করতে থাকেন।

২। সিজয়েড পার্সোনালিটি ডিসর্ডার-

‘সিজয়েড’ টার্মটি দ্বারা বোঝানো হয় মানুষের এমন সমস্যাকে যেখানে সামাজিক সম্পর্কগুলোর প্রতি অবহেলা করে। সবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সে নিজের কল্পনা জগতে বিরাজ করে। তাঁর সামাজিক এমনকি কারো সাথে শারীরিক সম্পর্কে যাবার আগ্রহও থাকে না।

৩। সিজটাইপাল ডিসর্ডার-

সিজোটাইপাল হচ্ছে মানুষের অদ্ভূৎ আচরণ, কোনকিছুকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা। সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের সাথে এদের মিল পাওয়া যায়। এরা অদ্ভুত সব বিষয় যেমন যাদুটোনা, ভুতপ্রেত, তন্ত্র-মন্ত্রর অন্ধের মত বিশ্বাস করতে পারে। এরকম মানসিক সমস্যা যাদের আছে তারাও সামাজিক সঙ্গ এড়িয়ে চলে।
৪। হিস্ট্রিয়নিক পার্সোনালিটি ডিসর্ডার-
ব্যক্তিত্বের এই সমস্যাগ্রস্থ মানুষেরা নিজের প্রতি সবসময় মনোযোগ আকর্ষনের চেষ্টা করে। এরা মনোযোগ আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন নাটকীয়তার আশ্রয় নেয়। অতিরিক্ত সদব্যবহারের পেছনে আসলে তারা খুবই লোভী উদ্দেশ্য নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। হিস্ট্রিয়নিক পার্সোনালিটি ডিসর্ডার সম্পন্ন মানুষগুলো অন্যের জন্য বিপদ্দজনক হতে পারে।
 
৫। নার্সিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসর্ডার-
যা ব্যাক্তিরা নিজেদের ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, সম্মানের যোগ্য মনে করেন অথচ তারা খুবই সাধারণ একজন মানুষ তারা এই পার্সোনালিটি ডিসর্ডারে ভুগছেন। তাঁদের অদ্ভুত আচরণের জন্য সবাই তাদের উদ্ধত, নিয়ন্ত্রণআরোপকারী, কঠোর মনে করেন। তাদের মনের মত না হলে তারা ভীষণ রেগে যায় এবং অপরের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

পার্সোনালিটি ডিসর্ডার মানেই মানসিক রোগী বা পাগল নয়। আমাদের দেশে শারীরিক অসুস্থতাকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, মানসিক সমস্যাগুলোকে সেভাবে দেখা হয় না। অথচ ছোট ছোট মানসিক সমস্যাগুলো  চিকিৎসার অভাবে বড় আকার ধারণ করে। অনেকসময় অন্যের বা রোগীর নিজেরও ক্ষতির কারণ হয়। তাই এই বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি এবং কারো মাঝে লক্ষণ দেখা গেলে তাকে নিয়ে যেতে হবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে।
Recent Posts
Contact Us

We're not around right now. But you can send us an email and we'll get back to you, asap.